দেশের সবচেয়ে কমবয়সী করোনাভাইরাস রোগীটি পর পর দুটি নমুনায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পর চট্টগ্রাম জেনারেল হাসাপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে খুশি ও আবেগ বয়ে যায়।

১০ মাসের শিশুটি গত ১০ দিন ধরে জীবনপণ লড়াই করে করোনাভাইরাসকে পরাস্ত করে আজ মায়ের কোলে চড়ে বাড়ি ফিরছেন।
১০ মাসের আবির কিভাবে করোনা আক্রান্ত হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে রুমা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে গত দুই মাস আমি হাসপাতালে আছি। কোন আত্মীয়ের বাসায় যাওয়া বা কোন আত্মীয় আমার বাসায়ও আসেনি। যখন তার করোনা আক্রান্তের খবর পাই তখনও আমরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আমার বিশ্বাস হাসপাতাল থেকেই আমার ছেলেটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

চন্দনাইশ উপজেলার পূর্ব জোয়ারা গ্রামের বাসিন্দা শিশুটির বাবা মাহবুবুল আলম ওমান প্রবাসী। পরিবারের অন্য সদস্যরা লকডাউনে থাকায় গত ১০দিন ধরে বিরুদ্ধ পরিস্থিতি মা একাই লড়াই করেছেন শিশুটিকে নিয়ে। গতকাল ছেলের সাথে রুমা আক্তারের নিজের নমুনা রিপোর্টও নেগেটিভ আসে। শনিবার দুপুরে যখন তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় তখন কান্না জড়িত কণ্ঠেই বলেন, আজ আমি অনেক খুশি। ছেলের রিপোর্টের সাথে সাথে আমার রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে। আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। আমি এবং আমার ছেলে যে কষ্ট পেয়েছি আর কেউ যেন সেই কষ্ট না পায়।

একই কথা বললেন শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. আব্দুর রব মাসুম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আবির মূলত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহর রহমত যে সে দ্রুতই সুস্থ হয়েছে। শিশুটির মা যেমন খুশি তেমনি আমরা চিকিৎসকরাও অনেক খুশি।

শিশুটিকে চিকিৎসা করাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল দাবি করে তিনি বলেন, যখন আমরা শুনলাম একটি দশ মাসের শিশু করনোভাইরাস পজিটিভ হয়েছে এবং শিশুটি আমাদের হাসপাতালে আসছে চিকিৎসার জন্য তখন আমরা বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিলাম। আমাদের সামনে তখন দুইটা অপশন ছিল। শিশু যেহেতু ছোট, কথা বলতে পারে না তাই মা নেগেটিভ হওয়া সত্ত্বেও তাকে সাথে রাখতে হবে। আর যেহেতু সে ওষুধ খেতে পারবে না, তাই কারে ইনজেকশন দিতে হবে। শিশুটি শ্বাসকষ্টে ভূগছিল। আমরা সবসময় তার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। অক্সিজেন খুলে যাচ্ছে কিনা, মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার সময়ও সতর্ক থাকতে হয়েছে। শিশুর সাথে যেন মাও করোনা আক্রান্ত হয়ে না পড়েন সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হয়েছে।
শিশু আবিরসহ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল থেকে এ নিয়ে দুই চিকিৎসকসহ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ১৭ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LANGUAGES »