এয়ারপোর্ট, আশকোনা আমতলা এলাকার নিউ বার্ড স্কুলের গলির এই বাড়িটির ব্যাপারে কেউ কি জানেন? (পর্ব -২)

ছেলেটা আত্মহত্যা করে সেই একই ভাবে এবং একই রুমে……

এর পরথেকে প্রতি রাতে না না গলার কান্নার আওয়াজ, এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিস ধুব ধাপ পড়ে যেত। বা কেও মনে হত যেন ফেলে দিত। একরাতে অনেক জোরে তাদের আলমারিটা পড়ে যায়। প্রচন্ডশব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় তাদের, আর তার পর পরই দুইজন যে খাটে শোয়া ছিল, তার পায়া গুলো এক এক করে চারটা ভেঙ্গে খাটটা ফ্লোরে বসে যায়। তার ঠিক পরদিন রাতেই তাদের বাসায় তুমুল ইট পড়ার আওয়াজ শুরু হয়ে, প্রথমে তারা মনে করে বুঝি শীল পড়ছে বৃষ্টির জন্য।

কিন্তু জানালায় খেয়াল করতেই দেখে কোন বৃষ্টিই ছিল না। তো কি হচ্ছে দেখার জন্য যে এক জন বের হয়, অমনি শব্দ বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরে ঢুকতেই সেই একই অবস্থা। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আলাদা করে বের হয়ে দেখলো। কিন্তু একই ব্যাপার। বের হলে শব্দ নাই, ঢুকলেই তুমুল ইট পড়ার শব্দ। এরপর দুজন একসাথেই বের হল।

বের হতেই তারা দেখল উপরে কিছুই নেই, কিন্তু ঠিকি বাসার ভেতর থেকে চালে ইট পড়ার শব্দ আসতেছে। এরপরও তারা রাতটুকু কাটানোর জন্য ভেতরে গিয়ে শুয়ে পরে। ঠিক রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে তাদের চালে অনেক জোড়ে একজন মানুষ পড়ার বিকট শব্দ হয় যেন পুরো চালটাই দুমড়ে মুচড়ে গেল। এর পর আর তাদের পক্ষে সম্ভব হয় নি ওই বাড়িতে থাকা। পরদিন সকালে তারা বাড়ি বিক্রির একটা নোটিস লাগিয়ে তল্পিতল্পা গুছিয়ে চলে যায় সেখান থেকে।।

ঘটনা হয়তো এখানেই শেষ হতে পারতো, কিন্তু না, তার দুই বছর পর অন্য একলোক আবার সেই বাড়িটি কেনে ও তার পরিবার ও তিন সন্তান সহ ওঠে এই অভিশপ্ত বাড়িতে। যা বলছিলাম, প্রথম বাসিন্দারা চলে যাবার পর হয়তো ঘটনা ওখানেই শেষ হতে পারতো, কিন্তু না, বাড়িটি প্রায় ২ বছর পর আবার বিক্রি হয়। এবারের পরিবারটিও ছোট খাটই বলা যায়, সবাই মিলে ৫-৬ জন সদস্যই ছিল পরিবারটিতে। যদিও আশপাশ থেকে সাবধান-বানী এসেছিলো তাদের কানেও কিন্তু, অন্য সবার মত তারাও কানে নেয় নি বিষয় গুলো, যতক্ষন না পর্যন্ত তারা নিজেরাও শিকার হওয়া শুরু হল এ অভিশাপের।

মাস যেতে না যেতেই রাতের বেলা সেই বিভিন্ন গলায় কান্নার আওয়াজ, রাগে ঘর ঘর করার শব্দ পেতে শুরু করল। সাথে সেই এটা ওটা ফেলে দেয়া তো ছিলোই। তো মাস দুই যেতে না যেতেই হটাৎ এক ভোরে গৃহকর্তার দেহটি পাওয়া গেল, গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায়, সেই একই ভাবে, সেই একই রুমে। পুরো বাড়ি জুড়ে নেমে এল তীব্র আতঙ্কের ছায়া। তার কয়দিন পরেই একরাতে সেই তুমুল ইট পরার শব্দ, সে এক ভয়ংকর অবস্থা। তারা বুঝলো আর হয়তো তাদের এখানে থাকাটা দৃষ্টটা হয়ে যাচ্ছে।

সেই পরদিন সকালে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিল সবাই। কিন্তু সেই ভোর আর দেখা হলনা গৃহকর্তীর। সকালে তাকে ঘরে না দেখে খুজতে গিয়ে পাওয়া গেল, আবার সেই গৃহপরিচারিকার সেই অভিশপ্ত রুমটিতে, একই ভাবে ঝুলন্ত অবস্থায়। নাহ, আর সম্ভব না, বাড়ির মালিকের ছেলে মেয়ে যারা ছিল, আবার একটা লিগ্যাল নোটিস টাঙ্গিয়ে এবার তারাও চলে গেল, বা বলতে পারেন বাধ্যই হল চলে যেতে। শুনেছি তারা নাকি দেশের বাইরে আছেন সবাই। তারপর প্রায় দীর্ঘ ৬-৭ বছর খালিই পড়ে ছিল এই বাড়িটি।

ছবিতে বাড়িটি ঘেসে যে লাল রঙের বিল্ডিংটি দেখা যাচ্ছে , ওর নিচ তলার বাসিন্দা ও আশপাশের বাড়ির নিচতলার লোকেরা প্রায় রাতেই না না রকম গলায় কান্নার আওয়াজ , মাঝ রাতে হটাৎ হটাৎ করে চিৎকারের আওয়াজ , অদ্ভুত ও ভিন্ন ভিন্ন গলায় তীব্র রাগে ঘর ঘর করার আওয়াজ, আবার ঘরের মেঝের উপর দিয়ে কিছু টেনে নেয়ার শব্দ প্রায়ই শুনতে পান। কি ভাবছেন? ঘটনা শেষ! হয়তো হতেও পারতো।

কিন্তু দুঃখিত, তখনো ক্ষিধে মেটেনি এই অভিশপ্ত বাড়িটির। দীর্ঘ সাত বছর পরে থাকার পর আবার এক জনৈক ব্যাক্তি কিনে নেন বাড়িটি। যদিও এসব ঘটনার কিছুই জানতেন না তিনি। যেদিন বাড়িতে ওঠার জন্য এলেন, সেদিনই তিনি প্রথম জানতে পারেন এ ব্যাপারে। কোন ভাবেই এলাকার লোকজন তাকে থাকতে দিতে রাজি ছিল না।

কিন্তু লোকটি বেশ সাহসী আর একদমই কুসংস্কার মুক্ত লোক ছিলেন। তাই ওসব কথা কানে তো নিলেনই না। উলটো ধারনা করলেন যে আলাকার লোক তাকে বুঝি দখল না দেবার জন্যই করছে এমন। তিনিও ওঠার জন্য গো-ধরে বসলেন। শেষমেশ থাকলে কাউকে নিয়ে থাকতে হবে এই শর্তে বাড়িতে ওঠেন তিনি।

তার সাথের লোকটি কে ছিল, এ ব্যাপারে কোন নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায় নি। সে রাতের ঘটনা আশপাসের বাড়ি থেকে যা জানা যায় সেটা অনেকটা এরকম, তারা নাকি রাতে বেলা ছাদের ইটপড়ার শব্দ শুনে বাইরে আসে আড়াইটা তিনটার দিকে রাত। কে ইট মারে বলে হাকডাক দিচ্ছিলো।

কিছুক্ষন পর আবার ভেতরে চলে যায় তারা। সে রাতে আর কোন আদিভৌতিক অভিজ্ঞতা তাদের হয়েছিল কিনা, এব্যাপারে সঠিক কিছুই আর জানা যায় না। কারন পরদিন দুজনকেই পাওয়া যায়, সেই বাড়ির সেই একই অভিশপ্ত রুমে, একই ভাবে একই ফ্যানের সাথে দুজনকে গলায় দুই দড়ি দিয়ে একসাথে ঝুলতে থাকা অবস্থায়। বিদ্রঃ এটি একটি সম্পুর্ন সত্যি ঘটনা। তাই সত্যতা নিয়ে বাড়তি প্রশ্ন আশা করছি না।

কেউ চাইলে নিজে গিয়ে দেখে আসতে পারেন বাড়িটি, ঠিকানা বা লোকেসন বা আরো কোন অতিরিক্ত তথ্য নিয়ে কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে। তবে সেটা একান্তই স্বইচ্ছায়। কোন প্রকার কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে, কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

One thought on “এয়ারপোর্ট, আশকোনা আমতলা এলাকার নিউ বার্ড স্কুলের গলির এই বাড়িটির ব্যাপারে কেউ কি জানেন? (পর্ব -২)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LANGUAGES »