উৎপাদন খরচ ও উঠবে না ধান থেকে

এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় লক্ষমাত্র অতিক্রম করার আশা করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে জেলায় ৮০ শতাংশ ধান টাকা শেষ হয়ে গেছে। কৃষক এখন ধান বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন। সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু না হওয়ার কারণে ব্যবসায়িদের কাছে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে চিকন ধান ৭০০ টাকা মণ এবং মোটা ধান ৫০০ টাকা মণে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।


কৃষকদের দাবি- পাইকারদের কাছে ধান বিক্রি করে উৎপাদন মুল্যও পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও শ্রমিকদের মজুরিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে কম দামেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।


সূত্রে জানা যায়- গত ২৭ এপ্রিল থেকে হাওর অঞ্চলে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ করার সময় নির্ধারণ করে দেয় মন্ত্রণালয়। সময় অনুযায়ি নেত্রকোণা ও ২৯ এপ্রিল সুনামগঞ্জ অঞ্চলে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কিন্তু হবিগঞ্জে ধান কাটা শেষের পথে থাকলেও সরকারীভাবে কেনার দিন তারিখই নির্ধারণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ এবং অন্যান্য উপজেলায় এখনও শুধুমাত্র তালিকা তৈরীর কাজ চলছে।


অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক, কৃষি অফিসার ও নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যে ধান কেনা নিয়ে সমন্যয়হীনতার আভাস পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক বলছেন- তালিকা তৈরীর কাজ চলছে, কিছু দিনের মধ্যেই ধান সংগ্রহণ শুরু হবে। আর কৃষি কর্মকর্তা ৮০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হওয়ার কথা জানালেও ভিন্ন কথা বলছেন বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন- এখনও যথেষ্ট পরিমাণে ধান কাটা হয়নি। তাই আগামী ২মে’র পর থেকে সরকারীভাবে ধান সংগ্রহণ শুরু তরা হবে।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলার কৃষক সঈদ হোসেন বলেন- ‘এলাকায় শ্রমিক না থাকার কারণে বাহিরের শ্রমিক এনে ধান কাটিয়েছি। এখন শ্রমিকের মজুরী পরিশোধ করার জন্য ধান বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সরকারও ধান নিচ্ছে না, আর পাইকাররা যে দামে ধান নিচ্ছেন তাতে উৎপাদন খরচও উঠে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LANGUAGES »