অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধীপু মনী

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে অনলাইনে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থী ভর্তি করা নিয়ে বৃহস্পতিবার ইউজিসির ওয়েবসাইটে নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউ জি সি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলতি সেমিস্টারের অসমাপ্ত কার্যক্রম (পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন) অনলাইনেই শেষ করতে পারবে। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কমপক্ষে ৬০ শতাংশ আছে কেবল সেগুলোই অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাবে।

আগামী জুনে অনলাইনে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পরের সেমিস্টারের ক্লাস-পরীক্ষাও অনলাইনে নিতে পারবে।

৩০ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে এক ভার্চুয়াল সভায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউজিসি বিস্তারিত নির্দেশনা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষকে নিদেশনাগুলো হলোঃ
“যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চলমান সেমিস্টারের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে সন্তোষজনকভাবে পরিচালনা করছে, তাদের জন্য দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে ইউজিসি।

প্রস্তাব- ১:

কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আগের মত চলতি সেমিস্টারেও কোর্সগুলো অসমাপ্ত পাঠ্যসূচির উপর অনলাইনে ক্লাস চলমান থাকবে। তবে ল্যাবরেটরিভিত্তিক সকল কোর্সের ব্যবহারিক ক্লাস করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শ্রেণিকক্ষে সম্পন্ন করতে হবে।

“অনলাইনে ক্লাসের বিষয়ে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের উপযোগী ডিজিটাল পদ্ধতিতে যে কোনো অনলাইন প্লাটফর্মের সহায়তা নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সকল পর্যায়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন চলমান নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে।

প্রস্তাব- ২:

কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আগের মত চলতি সেমিস্টারে কোর্সগুলোও অসমাপ্ত পাঠ্যসূচির উপর অনলাইনে ক্লাস চলমান থাকবে। এ বিষয়ে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের উপযোগী ডিজিটাল পদ্ধতিতে যে কোনো অনলাইন প্লাটফর্মের সহায়তা নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

“চলমান সেমিষ্টারে তত্ত্বীয় কোর্সের বিভিন্ন বিষয়ে রেজিস্ট্রিকৃত শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে এ সকল বিষয়ের অসমাপ্ত পাঠ্যসূচি (যা ৩০ শতাংশের মত) সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়ে গেলে এবং অনলাইনের কার্যক্রম শুরুর আগে চলমান সেমিস্টারের বিভিন্ন বিষয়ে ইতোপূর্বে ক্লাস উপস্থিতি, পারফরমেন্স, ক্লাস টেস্ট, মিড-টার্ম পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে যা মূল্যায়ন করা হয়েছে তার নম্বর এবং অনলাইনের পঠিত অংশের উপর এ্যাসাইনমেন্ট, কেইস স্টাডি, ভাইভা (ভিডিও ডিভাইস অন অবস্থায়), ভার্চুয়াল প্রেজেন্টেশন নিয়ে যথাযথ স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করে মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়ে ফলাফল প্রকাশ করা যাবে।

“মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন হলে পূর্বের সেমিস্টারে ফলাফল বিবেচনায় আনা যেতে পারে। সব বিষয়ের ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রকাশ করতে হবে।”

তবে ল্যাবরেটরিভিত্তিক সকল কোর্সের ব্যবহারিক ক্লাস গ্রহণ, এর উপর পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করে সরাসরি শ্রেণি কক্ষে সম্পন্ন করতে হবে।

ইউজিসি বলছে, এই দুটি প্রস্তাবের যে কোনো একটি গ্রহণ করতে হলে চলমান সেমিস্টারে অনলাইনে নেওয়া ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ন্যূনতম ৬০ শতাংশ হতে হবে।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এই শর্ত পূরণ করেছে কেবল তারাই দুটি বিকল্প প্রস্তাবের মধ্যে কোনটি গ্রহণ করবে তা লিখিতভাবে আগামী ১৭ মে’র মধ্যে ইউজসিকে জানিয়ে অনুমোদন নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LANGUAGES »